Bahera Plant – বহেরা গাছের পরিচয়
Bahera Plant – বহেরা। ইংরেজীতে একে bahera বা beleric or bastard myrobalan বলে। বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia bellirica। একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গাছ, যা আয়ুর্বেদ ও ভেষজ চিকিৎসায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি বড় ও মাঝারি আকারের বৃক্ষ, সাধারণত ২০–৩০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। গাছের ছোট ফুল এবং লম্বা শ্যাওলা রঙের ফল medicinal গুণে সমৃদ্ধ। বহেরা গাছ ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদি নিবাস। এটি আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া এবং দো-আঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। গাছের ফল, ছাল ও বীজ ভেষজ ঔষধি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদে বহেরা হজম শক্তি বৃদ্ধি, প্রদাহ কমানো, রক্তনালী ও লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়। নার্সারি ও বাগানে সহজে চাষযোগ্য, এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও ঔষধি গুণ বজায় থাকে।
বহেরা বা Bahera এর উপকারিতা।
-
হজম শক্তি বৃদ্ধি: কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয় সমস্যা উপশমে সহায়ক।
-
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শরীরের প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে।
-
লিভার ও রক্তনালীর সুরক্ষা: হৃৎপিণ্ড ও লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
-
প্রদাহ কমানো: শরীরের প্রদাহ হ্রাসে কার্যকর।
-
🌿 চর্মরোগ ও ক্ষত নিরাময়: সংক্রমণ ও ক্ষতের দ্রুত নিরাময়ে সহায়ক।
-
শক্তি ও সহনশক্তি বৃদ্ধি: নিয়মিত ব্যবহারে শরীরের শক্তি বাড়ে।
-
শ্বাসকষ্ট ও কফ উপশম: ফল ও বীজের সংমিশ্রণে কফ, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে উপকারী।
-
সহজ চাষযোগ্য: নার্সারি ও বাগানে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও ঔষধি গুণ বজায় রাখে।
বহেরার উপাদান
-
ট্যানিনস (Tannins) – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক, চর্মরোগ ও ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক।
-
গ্যালিক অ্যাসিড (Gallic Acid) – হজম শক্তি বৃদ্ধি ও দেহের টক্সিন কমাতে কার্যকর।
-
ফ্ল্যাভোনয়েডস (Flavonoids) – প্রদাহ কমানো এবং কোষের ক্ষয় রোধে সহায়ক।
-
সাপোনিনস (Saponins) – রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রক্তনালীর কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
-
অলকেলয়েডস (Alkaloids) – হরমোন ভারসাম্য ও শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।
-
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ (Antioxidant Compounds) – কোষের ক্ষয় রোধ ও বার্ধক্য ধীর করতে সহায়ক।
beleric বা বহেরার পরিচর্যা
-
মাটি: উর্বর, দো-আঁশ বা ভালো ড্রেনেজযুক্ত মাটি ব্যবহার করুন।
-
সূর্যালোক: আংশিক থেকে সরাসরি সূর্যালোক উভয়ই গাছের জন্য উপযুক্ত।
-
সেচ: নতুন চারা নিয়মিত পানি পাবে; পরিপক্ব গাছ তুলনামূলকভাবে কম পানি সহ্য করতে পারে।
-
বীজ ও চারা রোপণ: পরিপক্ব ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে নার্সারি বা বাগানে রোপণ করুন।
-
সার প্রয়োগ: হালকা জৈব সার বা কম্পোস্ট প্রয়োগ করলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
-
রোগ ও কীটপতঙ্গ: নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন; প্রয়োজনে প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করা যায়।
-
ছাঁটাই: অপ্রয়োজনীয় শাখা ও পাতা ছেঁটে গাছের আকার ও স্বাস্থ্য বজায় রাখুন।
-
ফুল ও ফল: গ্রীষ্মে ফুল ফোটে; ফল সাধারণত পরিপক্ব হয় বর্ষার পরে।








Reviews
There are no reviews yet.